সব সংবাদ
স্বাস্থ্য

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে শতভাগ দুর্নীতির অভিযোগ

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে শতভাগ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান, হাসপাতালের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে শতভাগ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন। ২৪ জুন ২০২৬ সকালে তিনি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় প্যাথলজি বিভাগ, এমআরআই ইউনিট, সিটি স্ক্যান ইউনিট, আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিভাগ, মেডিসিন বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত মহাপরিচালক দেখতে পান, হাসপাতালের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এসব চিত্র দেখে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় শতভাগ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। জনগণের অর্থে কেনা যন্ত্রপাতি যদি ব্যবহারই না হয়, তাহলে তার দায় সংশ্লিষ্টদের এড়ানোর সুযোগ নেই। রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের নষ্ট ও অকেজো যন্ত্রপাতি দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনবল সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে রোগীরা উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় হাসপাতালের কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রমে দুর্নীতি ও অসঙ্গতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে।