ময়মনসিংহ রুটে জরাজীর্ণ কোচ, পূর্ণ ভাড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি
দেশের বিভিন্ন রুটে নতুন রেলপথ নির্মিত হলেও প্রয়োজনীয় কোচ ও লোকোমোটিভ সংকটে জর্জরিত বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ সেকশনে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ পুরোনো কোচ, নোংরা টয়লেট, ছেঁড়া আসন ও বিদ্যুৎ সমস্যায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অথচ পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হলেও ন্যূনতম সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তারা।
দেশে নতুন রেলপথ নির্মাণ হলেও যাত্রীসেবার মান উন্নত হয়নি। ময়মনসিংহ সেকশনের ট্রেনগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ পুরোনো কোচ। এই রুটে ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইনের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের ভেতরে টয়লেটগুলো নোংরা, আসনগুলো ছেঁড়া, বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা, ফ্যান নষ্ট এবং ট্রেনের গতিও মন্থর। সবমিলিয়ে খুবই নিম্নমানের সেবা পাচ্ছেন যাত্রীরা। কিন্তু বিপরীতে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে পূর্ণ ভাড়া।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রেনটির এক কোচ থেকে অন্য কোচে বিদ্যুৎ সরবরাহের সংযোগস্থলে প্লাগের পরিবর্তে বাঁশের কাঠি দিয়ে বিপজ্জনকভাবে তার আটকে রাখা হয়েছে। কোচগুলোর মধ্যবর্তী যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত লোহার পাটাতনের হুক ভাঙা অবস্থায় রয়েছে, যা চলন্ত ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে।
খাবার গাড়ির টেবিলগুলো যাত্রী ও তাদের মালপত্রের দখলে চলে গেছে। টয়লেটগুলো থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। কিছু টয়লেটে পানি নেই। কোচের আসনগুলোর কাভার ছিঁড়ে গেছে, কাঠামোতে জং ধরেছে। ফ্যানগুলোর বেশ কয়েকটি নষ্ট হয়ে আছে।
যাত্রীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে এই রুটটিতে এভাবেই লক্কড়ঝক্কড় সেবা চলছে। ট্রেনে ভ্রমণের যে আনন্দ, এমন জরাজীর্ণ কোচে ওঠার পর তা নিমিষেই উবে যায়। অথচ ভাড়ার বেলায় কোনো ছাড় নেই।
রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, নতুন কোচ পেতে আমাদের দেরি হবে। ৫০০টি মিটারগেজ কোচ কেনার পরিকল্পনা আছে। অনুমোদন এবং অর্থায়ন নিশ্চিত হলে আমরা প্রজেক্টগুলো নেব। সেগুলো পেলে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুরোনো কোচ পাল্টে দেব।
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশে অনেক নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই রেলপথগুলোর তুলনায় প্রয়োজনীয় কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে বিশেষ করে মিটারগেজ অঞ্চলে লোকোমোটিভ ও কোচের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা এই নিম্নমানের সেবাকে যাত্রীদের সঙ্গে স্পষ্ট অন্যায় হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, নিরাপত্তাহীন ও নিম্নমানের সেবা দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে পূর্ণ ভাড়া নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রেলকে নিরাপদ, আরামদায়ক ও যাত্রীবান্ধব করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।