লালমনিরহাটে তিস্তার পানি এখন বিপৎসীমার নিচে
লালমনিরহাট জেলায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। ডালিয়া পয়েন্টে আজ দুপুরে পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আপাতত বন্যার আশঙ্কা কেটে গেছে।
লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। ডালিয়ায় তিস্তার পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ৫২ দশমিক ০২ মিটার, সকাল ছয়টায় ছিল ৫২ দশমিক ০৪ মিটার। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। তবে রাত ৮টার পর থেকে পানি কমতে শুরু করে। তিনি বলেন, উজান থেকে ঢল এলে তিস্তায় পানি বেড়ে যায়, আর ঢল বন্ধ হলে কমে যায়। গত কয়েকদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি ওঠানামা করছে। শুনীল কুমার আরও জানান, তিস্তাপাড়ের যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছিল, সেসব এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। আপাতত বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা কেটে গেছে। হাতীবান্ধা উপজেলার চর গড্ডিমারী এলাকার কৃষক সিরাজ উদ্দিন (৬৫) জানান, গতকাল দুপুরে তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় তারা ভয় পাচ্ছিলেন। কিন্তু রাত ৮টার পর থেকে পানি কমতে শুরু করায় এখন আর শঙ্কা নেই। লালমনিরহাট সদর উপজেলার চর গোকুন্ডা এলাকার কৃষক সহিদার রহমান (৬০) বলেন, ভোরে পানি নেমে গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় তারা বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ পানি কমতে শুরু করায় বাড়িতেই আছেন। অন্যদিকে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কুড়িগ্রামে আপাতত বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা নেই। তবে জেলায় অন্তত ৩৮টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।