সব সংবাদ
খেলা

বিশ্বকাপের মাঝে মেসির ৩৯তম জন্মদিন: শুভ নয়, বরং মনে করিয়ে দেয় সময়ের কঠোর সত্য

আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ চলাকালীন ৩৯ বছরে পা রাখলেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কারণ অসুস্থ বাবাকে বাড়িতে রেখেই মাঠে নামতে হয়েছে। এই জন্মদিন আনন্দের নয়, বরং এটি অনেক ভক্তের কাছে সময়ের অপ্রতিরোধ্যতার একটি বিষাদময় স্মারক।

ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসি একটি জীবন্ত কিংবদন্তি। কিন্তু সময় কাউকেই রেহাই দেয় না—এই সত্যটাই যেন মেসির এবারের জন্মদিনে মনে করিয়ে দেয়। বিশ্বকাপের মাঝে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ চলাকালীন মেসি ৩৯ বছরে পা রাখলেন।

সেই ম্যাচে মেসি প্রথম গোল করার পর চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি। কারণটা ছিল তাঁর বাবা—যিনি অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে পড়ে আছেন, আর মেসিকে যেতে হয়েছে হাজার কিলোমিটার দূরে বিশ্বকাপে খেলতে। এই দুশ্চিন্তার বোঝা বুকে চেপেই তাঁকে মাঠে নামতে হয়েছে, সমর্থকদের আনন্দ দিতে হয়েছে।

ছোটবেলায় মেসির গ্রোথ হরমোন সমস্যা ছিল। তাঁর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার কথাই ছিল না। কিন্তু সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তারকা, যাঁর পায়ে বল দেখলে কোটি মানুষ তাঁর দুঃখ ভুলে যায়। পেপ গার্দিওলা একসময় বলেছিলেন, 'তাকে নিয়ে লিখো না, শুধু দেখে যাও।' কারণ তাঁর কৃতিত্ব বর্ণনার বাইরে।

কিন্তু এবারের জন্মদিনটা আনন্দের নয়। এটি যেন একটি অস্তাচলের সূর্য—গোধূলি নেমে আসছে, আঁধার হয়ে যাবে একটু পরেই। মেসিকে ছাড়া আগামী বিশ্বকাপে সেই 'শীত' আরও তীব্র হবে। তাঁর খেলা দেখতে ভক্তরা সাইকেলে চেপে হাজার কিলোমিটার যান, রাত জেগে টিভি দেখেন—এই যে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, সেটাই একটি ঋণ।

আজ থেকে অনেক দিন পরে, যখন মেসি আর মাঠে থাকবেন না, তখন এই ক্ষণগুলো মনে পড়বে। তাঁকে নিয়ে গল্প বলতে হবে পরের প্রজন্মকে। কারণ সময় কাউকেই চিরকাল ধরে রাখতে দেয় না—বুট তুলে জায়গা করে নিতে হয় ইতিহাসের পাতায়। তবুও বলতেই হবে, শুভ জন্মদিন, আমরা তোমাকে ভালোবাসি।

মূল প্রতিবেদন (Reference): মেসি, এবারের জন্মদিনটা মোটেও শুভ নয় — Prothom Alo