খুলনার আকাশচুম্বী ভবনের ছায়ায় স্বপ্নের টার্ফ মাঠ
খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে আকাশচুম্বী ভবনের মাঝে গড়ে উঠেছে বিভাগের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের টার্ফ মাঠ। তিন তরুণ উদ্যোক্তার যৌথ উদ্যোগে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মাঠে ইতোমধ্যে জাতীয় ফুটবল ও হকি দলের তারকা খেলোয়াড়রা খেলে গেছেন।
খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গা এলাকায় আকাশচুম্বী সব বহুতল ভবনের ঠিক মাঝখানে এক অপরূপ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। কালো নেট দিয়ে আবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল মাঠের অবিকল রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি সবুজ মাঠ। প্রথম দেখাতে যে কারও মনে হবে, এটি ইউরোপ বা আমেরিকার কোনো আধুনিক ফুটবল ভেন্যু।
খুলনাবাসীর জন্য এমন মাঠের দেখা মেলা নিঃসন্দেধে প্রথম এবং চমৎকার একটি অভিজ্ঞতা। ইতোমধ্যে জাতীয় ফুটবল দল ও জাতীয় হকি দলের একাধিক তারকা খেলোয়াড় এই মাঠে খেলে গেছেন।
খুলনা তথা গোটা বিভাগে প্রথমবারের মতো এমন আধুনিক কৃত্রিম ঘাসের টার্ফ মাঠ নির্মাণের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা। সম্প্রতি নগরীর সোনাডাঙ্গা এমএ বারী সড়কের পাশে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই টার্ফের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় ফুটবল ও হকি দলের খেলোয়াড়সহ স্থানীয় পর্যায়ের অনেক ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়ামোদী উপস্থিত ছিলেন।
তরুণ উদ্যোক্তাদের দাবি, খুলনা বিভাগে এটিই প্রথম টার্ফ মাঠের উদ্যোগ। খুলনার তিন তরুণ উদ্যোক্তা প্রিন্স, মিম এবং তৌকির যৌথভাবে এ মাঠটি নির্মাণ করেছেন। বাগেরহাট জেলার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার বছরের জন্য জমিটি লিজ নিয়ে তারা এই বিশাল প্রজেক্ট দাঁড় করিয়েছেন। মাঠটি আন্তর্জাতিক মানের করতে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ হয়েছে বলে তারা জানান।
এ মাঠের আধুনিকতা নিশ্চিত করতে ভিয়েতনাম থেকে উচ্চমানের কৃত্রিম ঘাস (টার্ফ) এবং চায়না থেকে বিশেষ রাবার আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য কোম্পানির মাধ্যমে মাঠের চারপাশে মজবুত নেট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নৈশকালীন বা রাতে খেলার জন্য স্থাপন করা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির ফ্লাডলাইট বা এলইডি লাইট।
খুলনার সব স্তরের ক্রীড়াপ্রেমীরা যাতে এখানে খেলার সুযোগ পায়, সেজন্য প্রতি ম্যাচের ফি রাখা হয়েছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের রিফ্রেশমেন্টের জন্য মাঠের পাশেই রয়েছে আধুনিক সুইমিংপুলের সুব্যবস্থা।
মাঠে আসা একাধিক ক্রীড়ামোদী জানান, খুলনার ক্রীড়া ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছে। খুলনার ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার দিক থেকে সবসময় অনেক এগিয়ে। আমাদের একটি ভালো টার্ফ মাঠের অভাব ছিল, যা খুলনার সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় আফঈদা খন্দকার বলেন, খুলনা বিভাগে প্রথম টার্ফ মাঠের উদ্যোগ নেওয়ায় উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানাই। বর্তমান যুগের তরুণেরা যখন মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে মাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন তাদের মাঠে ফেরানোর জন্য এটি একটি উপযুক্ত ও দারুণ স্থান।
একই সুর মেলালেন জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের খেলোয়াড় শাহরিয়ার ইমন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার মাঠ দিন দিন কমে যাচ্ছে। খুলনায় আগে কোনো টার্ফ ছিল না, এটি দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।
খুলনা টার্ফের অন্যতম প্রধান স্বপ্নদ্রষ্টা ও উদ্যোক্তা প্রিন্স মারুফ বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে অনেক টার্ফ মাঠ করা হয়েছে। সেসব দেখেই আমি খুলনায় এসে আমার বাকি বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করি এবং আমরা এই উদ্যোগ নিই। খুলনা বিভাগে এটিই প্রথম এবং শুরু থেকেই আমরা সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া ও সহযোগিতা পাচ্ছি।