সব সংবাদ
স্বাস্থ্য

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল: ৮৬ শিক্ষার্থীর এমবিবিএস ডিগ্রি অনিশ্চয়তায়

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ফলে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ৮৬ জন শিক্ষার্থী চরম সংকটে পড়েছেন। বিএমডিসি ও ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিবিএস ও ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে। হাসপাতাল বন্ধ থাকায় তাদের ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

রাজধানীতে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা ৮৬ জন দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী। হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় বর্তমানে তাদের ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ও ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের কঠোর নীতিমালার কারণে অন্য কোনো হাসপাতালে মাইগ্রেশন করারও সুযোগ নেই শিক্ষার্থীদের। ফলে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিবিএস ও ইন্টার্নশিপ শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতায় এই ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের ডিগ্রির ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বিএমডিসির ভর্তি নীতিমালার ধারা ৭.০ এবং ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের রেগুলেশন্স, ২০২১-এর ৪(ক)(২) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীর এমবিবিএস ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য হতে হলে তাকে একই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে কোর্স এবং ইন্টার্নশিপ উভয়ই সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়াও বিএমডিসির ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায়ও একই নিয়ম বলবৎ রয়েছে।

ভারতের কাশ্মীর থেকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে পড়তে আসা এক শিক্ষার্থী ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনি ৮ বছর ধরে এই কলেজে আছেন এবং এখান থেকেই এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন। ভারতের এনএমসি গাইডলাইন অনুযায়ী তিনি মাইগ্রেশন নিয়ে অন্য কোথাও ইন্টার্নশিপ করতে পারবেন না। অন্য কোথাও বাকি থাকা ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করলে তাদের দেশে তার ডিগ্রির কোনো মূল্য থাকবে না।

গত ১৫ জুন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালের অধ্যক্ষ বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও মেডিকেল কলেজ বন্ধ হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে একটি জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে হবে।

বিএমডিসির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এই হাসপাতাল শুধু চিকিৎসাসেবা দেয় না, এখান থেকে চিকিৎসকও তৈরি হয়। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ফলে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। দেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি।