ফ্রান্সে প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত, ডাকারের অবস্থা স্থিতিশীল
ফ্রান্স তার প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত করেছে। একজন চিকিৎসক কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে মানবিক মিশন থিরে ফিরে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে একটি বিশেষায়িত সুবিধায় ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একজন চিকিৎসক কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে মানবিক মিশন থেকে ফিরে এসে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে তাৎক্ষণিক একটি বিশেষায়িত সুবিধায় ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। এটি ইউরোপে প্রতিশনাক্ত প্রথম ইবোলা কেস। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে গত মাসে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ভাইরাটি আগে থেকেই ছড়াচ্ছিল। এ পর্যন্ত ২৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে এবং প্রায় ১০০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায়ও ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডায় ২০ জন আক্রান্ত এবং ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছে এবং ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে। স্বাস্থ্য কর্মীরা ইবোলায় বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন কারণ এই রোগ শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়ায়। বর্তমান প্রাদুর্ভাব বুন্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট, যার কোনো টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। ফ্রান্স কঙ্গো থেকে ফিরে আসা ত্রাণ কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে। আফ্রিকান সিডিসি এবং মার্কিন জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রাদুর্ভাব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি হতে পারে। কঙ্গোতে আক্রান্তদের সংখ্যা এখন পূর্ব প্রদেশগুলোতে — ইতুরি, দক্ষিণ কিভু এবং উত্তর কিভুতে সবচেয়ে বেশি। ইতুরি প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্র এবং ৯০ শতাংশের বেশি সংক্রমণ এখান থেকে হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, পূর্ব কঙ্গোর সংঘাত ইবোলা মোকাবেলা আরও কঠিন করে তুলেছে। এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী উত্তর ও দক্ষিণ কিভুর বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।