সব সংবাদ
ফেনী

আলমগীর সিদ্দিকীর সাংবাদিক সম্মেলনে হট্টগোল, সাংবাদিকদের 'ফ্যাসিস্টের দোসর' বলে আক্রমণ

ফেনীর সময়ে প্রকাশিত এক সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করতে এসে কথিত বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকী সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তর না দিতে পেরে তিনি সাংবাদিকদের 'ফ্যাসিস্টের দোসর' বলে আখ্যা দেন এবং মামলার হুমকি দেন।

গতকাল মঙ্গলবার ফেনী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন কথিত বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকী। 'ফেনীর সময়' দৈনিকে তার বিরুদ্ধে 'আলমগীর সিদ্দিকীর ত্রাসের রাজ্য ঘোপাল-শুভপুর' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে নিজের মানহানি হয়েছে দাবি করে 'ফেনীর সময়ের' বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেন।

তিনি নিজেকে তারেক রহমানের 'একনিষ্ঠ সৈনিক' এবং মুন্সি রফিকুল ইসলাম মজনুর 'একনিষ্ঠ কর্মী' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া তার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের নির্যাতিত নিপীড়িত কর্মীদের সহযোগিতা করে আসছেন। ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির কোনো দলীয় অফিস না থাকায় তিনি নিজের অর্থায়নে উপজেলা সদরে দলীয় কার্যালয় করে দিয়েছেন এবং বিগত ২ বছর কার্যালয়ের ভাড়াও তিনি পরিশোধ করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি 'ফেনীর সময়ের' সম্পাদককে 'ফ্যাসিবাদের দোসর' আখ্যা দিয়ে প্রকাশিত সংবাদটিকে ভূয়া দাবি করেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বক্তব্য শেষে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, বিগত ১৭ বছর তিনি কোছায় ছিলেন, কয়টা মামলার আসামী হয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে তার কী ভূমিকা ছিলো। একইসঙ্গে পতিত সরকার আমলে 'ফেনীর সময়' সম্পাদকের বিরুদ্ধে কয়টা মামলা হয়েছে তাও জানতে চাওয়া হয়। এসময় তিনি প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিতে পেরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সাংবাদিকদের 'ফ্যাসিবাদের দোসর' বলে পাল্টা আক্রমণ করেন।

এতে করে সাংবাদিক সম্মেলনে হইহট্টগোল শুরু হয়। তার সঙ্গে আসা অনুসারীরা সাংবাদিকদের উপর তেড়ে আসেন এবং অশোভন আচরণ করেন। পরে সাংবাদিকরা একাট্টা হয়ে প্রতিবাদ জানালে অনুসারীরা আলমগীর সিদ্দিকীকে নিয়ে চলে যান।

এদিকে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানান, আলমগীর সিদ্দিকী সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করেছেন। এধরনের কোনো কার্যালয় সম্পর্কে তাদের জানা নেই।

সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে প্রথমে তার ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর ছবি দেওয়া হয়েছিল। পরে এমপি মজনু বিষয়টি জানতে পেরে ব্যক্তিগত ইস্যুতে তার ছবি ব্যবহারে আপত্তি জানান। এরপর এমপি মজনুর ছবি বাদ দিয়ে আরেকটি ব্যানার তৈরি করা হয়। তবে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা মনে করেন, এই ধরনের বিতর্কিত কাজে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির ৩ জন সদস্যের সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, ব্যক্তিগত ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আইন অমান্য করেছেন। এর আগেও তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে।