সব সংবাদ
স্বাস্থ্য

গরমে গ্যাস-অম্বল ও বদহজম বাড়ার কারণ জানুন

গ্রীষ্মে তীব্র তাপ ও পানির অভাবে পাকস্থলীর অম্লতা বেড়ে হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, এ সময় 'পিত্ত' দোষ বৃদ্ধি পায়। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে শরীরে 'আম' জমে নানা সমস্যা হয়।

গরমের মৌসুমে তীব্র তাপমাত্রা ও শরীরে পানির অভাবের কারণে পাকস্থলীর অম্লতা বেড়ে যায় এবং হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, গ্রীষ্ম ও বর্ষা 'পিত্ত' বা অগ্নি উপাদানের ঋতু। অতিরিক্ত গরমে এ পিত্ত দোষ বৃদ্ধি পায় এবং হজমের অগ্নি অতিরিক্ত তীক্ষ্ণ হয়ে গ্যাস্ট্রিক, অম্বল ও বদহজমের সমস্যা সৃষ্টি করে। তাপমাত্রা যত বাড়তে থাকে, হজমের নানা সমস্যাও তত বেশি দেখা দিতে শুরু করে।

অতিরিক্ত গরম, ঘাম, শরীরের পানির ঘাটতি এবং অনিয়মিত জীবনযাপন হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ফলে শরীরের খাবার ঠিকমতো হজম হয় না। এতে অম্বল, গ্যাস, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব বা খিদে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এই সময়ে খুবই সাধারণ।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম কালে স্বাভাবিকভাবেই হজম ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। অতিরিক্ত ঘাম, ডিহাইড্রেশন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস পাকস্থলীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে হজমতন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যায়।

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, খাবার সঠিকভাবে হজম না হলে শরীরে 'আম' নামক বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে জমে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হজমে গোলমাল হলে শুধু পেটের সমস্যাই নয়, পুরো শরীরের ওপর প্রভাব পড়ে। 'আম' জমার ফলে ক্লান্তি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল বিপাকক্রিয়া, অম্বল, গ্যাস ও হজমজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে। শরীরের প্রতিটি কোষ ও অঙ্গ পুষ্টি পায় হজমের মাধ্যমে, তাই সুস্থ হজমশক্তি বজায় রাখা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও মনে করে ডিহাইড্রেশন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।

গরমে হজমশক্তি ভালো রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে। সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এর পাশাপাশি ডাবের পানি, ঘোল ও লেবুর শরবত শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। হালকা ও টাটকা রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাভুজি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা ও বেদানার মতো পানিসমৃদ্ধ ফল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী। অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থেকে নিজের হজম ক্ষমতা অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করাও জরুরি।

আয়ুর্বেদে যোগব্যায়াম, ধ্যান ও প্রাণায়ামের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শীতলী ও ভ্রমরী প্রাণায়াম শরীরের অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি সকালে হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত জীবনযাপন বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সহায়ক। গরমকালে অ্যালোভেরা, গোলাপ, খাস, গুলকন্দ, চন্দন ও গন্ড কাতিরার মতো প্রাকৃতিক শীতল উপাদান ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ঋতু অনুযায়ী জীবনযাপন মেনে চললে গরমের মধ্যেও হজমশক্তি সুস্থ রাখা সম্ভব।