এক দশক পর ফিরল রিয়েল-টাইম নজরদারি, শেয়ার লেনদেন স্থগিতের ক্ষমতা পেল ডিএসই
প্রায় দশকব্যাপী বিরতির পর আবারও শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করার ক্ষমতা পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাজারে কোনো শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা গেলে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে ডিএসই।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রায় এক দশক পর আবারও রিয়েল-টাইম সার্ভেইল্যান্স বা তাৎক্ষণিক নজরদারির আওতায় শেয়ার লেনদেন স্থগিত করার কার্যক্রম শুরু করেছে। বাজারে কোনো শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা গেলে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তনের কারণ দেখিয়ে দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করে ডিএসই। এর মধ্যে শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ার এক মাসে ৬৬ শতাংশ বেড়ে ২৩৯ টাকায় পৌঁছায়। লেনদেন স্থগিতের পর সেটির দাম ৩২ শতাংশের বেশি কমে ১৬২ টাকায় নেমে আসে। অন্যদিকে সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারদর এক মাসের ব্যবধানে ৪২ টাকা থেকে বেড়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছায়, যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি।
এতদিন শেয়ারদর অস্বাভাবিক ওঠানামা করলে কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে সতর্ক বার্তা প্রকাশ করতো স্টক এক্সচেঞ্জ। এখন সন্দেহজনক লেনদেন হলে সতর্ক বার্তা প্রকাশের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে শেয়ার লেনদেন স্থগিতও করা হচ্ছে।
২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির পর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ডিএসইতে নাসডাক-এর এসএমএআরটিএস মার্কেট সার্ভেইল্যান্স সফটওয়্যার বসানো হয়। ২০১৫ সালে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা তৈরির ব্যবস্থা চালু হয়। ২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক দর ওঠানামার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অনেকগুলো কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সাময়িক স্থগিত করার রেওয়াজ চালু থাকে। পরে ২০১৭ সালে বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেনের সময়ে এই ক্ষমতায় লাগাম টানা হয়। সেই থেকে প্রায় ১০ বছর রিয়েল-টাইম নজরদারি বন্ধ রাখে স্টক এক্সচেঞ্জ।
বিগত বছরগুলোতে শেয়ারবাজারকে কারসাজি করার জন্য 'নিরাপদ আশ্রয়স্থল' হিসেবে গড়ে তোলা হয়। চলতি বছরের জুন মাসে বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান দায়িত্ব গ্রহণ করে শেয়ারবাজারে কারসাজি দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণার পরপরই ডিএসইকে রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের ক্ষমতা পুনরায় দেওয়া হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের জন্য আগাম সতর্কবার্তা দেবে, যা আস্থা ফেরাতে সহায়তা করবে। তাছাড়া এটি সন্দেহজনক লেনদেন বিরত থাকতে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে সহায়তা করবে।