ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে ১২৩ জনের মৃত্যু, ‘তাপ বলয়’ সৃষ্টির আশঙ্কা
ইউরোপে চলমান তীব্র গরমে স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানিতে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, সাহারা থেকে আসা উষ্ণ বায়ুর কারণে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী ‘তাপ বলয়’ বা হিট ডোম সৃষ্টি হতে পারে।
ইউরোপের দেশগুলোতে প্রতিবছরের মতো এবারও তীব্র গরম দেখা দিয়েছে। মে-জুন মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, যা আগে জুলাই মাসে ঘটত। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ইউরোপের বিশাল অঞ্চলজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী হিট ডোম বা ‘তাপ বলয়’ সৃষ্টি হতে পারে।
রয়টার্স জানায়, এ সপ্তাহেও ইউরোপের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গরমে পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটনার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
২১ জুন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বেশি তাপের দিন হয়। এদিন সূর্যালোকের সময় সবচেয়ে বেশি থাকে। বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, এ বছর একই সময়ে সাহারা থেকে আসা উষ্ণ বায়ু একটি ‘হিট ডোম’ বা তাপ বলয় সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্যমতে, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ড গত মে মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। ফ্রান্সে জাতীয়ভাবে রেকর্ডকৃত উষ্ণতম মাস হিসেবে মে মাস চিহ্নিত হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপের বিশাল অংশে অনুভূত তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে।
স্পেনে মে মাসে তাপপ্রবাহজনিত কারণে ১০১ জনের মৃত্যু হয়, যা ২০১৫ সালে পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এছাড়া ফ্রান্সে সাত জন ও যুক্তরাজ্যে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়।
তীব্র গরমে দেশে দেশে সতর্কতা জারি হয়েছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা এইএমইটি বেশ কয়েকটি অঞ্চলে লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে। ফ্রান্সের রেল নেটওয়ার্ক প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭১টি আন্তঃনগর ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। জার্মানির বার্লিন ওপেন টেনিস ফাইনাল স্থগিত করা হয়েছে। ইতালির বোলোনিয়া, ফ্লোরেন্স, মিলান এবং তুরিনসহ আটটি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স এই অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার জন্য একটি হিট ডোম বা ‘তাপ বলয়কে’ দায়ী করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাস ক্রমাগত পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে তোলায় তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ুগত স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ১২-১৬° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ছে।
এপি লিখেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের মতে, বিশ্বব্যাপী ও ইউরোপে ২০২৫ সাল ছিল এযাবৎকালের তৃতীয় উষ্ণতম বছর। বিগত তিন বছর যথাক্রমে ২০২৪, ২০২৩ এবং ২০২৫—বিশ্বব্যাপী এযাবৎকালের উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকরা ৮৫৪টি ইউরোপীয় শহর পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, গত গ্রীষ্মে আনুমানিক ২৪ হাজার ৪০০ তাপজনিত মৃত্যুর ৬৮ শতাংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী ছিল।
ডব্লিউএফওয়াই২৪ এর আবহাওয়াবিদ ইওয়ানা ভার্জিনি ইউরোনিউজ আর্থকে বলেছেন, ইউরোপীয় গ্রীষ্মকাল শুধু উষ্ণতরই হচ্ছে না – এটি দুই প্রান্তেই দীর্ঘতর হচ্ছে।