মার্কিন সিনেটে ইরান যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব পাস, ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা
মার্কিন সিনেট ৫০-৪৮ ভোটে ইরানবিরোধী যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব পাস করেছে। এটি প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের উভয় কক্ষে এই ধরনের প্রস্তাব পাস হলো, তবে ট্রাম্পের ভেটোর সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন সিনেট মঙ্গলবার ৫০-৪৮ ভোটে একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব পাস করেছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করতে এবং কোনো পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবে। এই প্রস্তাবটি এই মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছিল।
রিপাবলিকানরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাখলেও, চারজন রিপাবলিকান সেনেটর দলের অবস্থান থকে সরে এসে এই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন। তারা হলেন লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি, আলাস্কার লিসা মারকোভস্কি, মেইনের সুজান কলিন্স এবং কেন্টাকির র্যান্ড পল। প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সেনেটর এই প্রস্তাবে ভোট দিয়েছেন, শুধু পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান ছাড়া।
মঙ্গলবারের ভোটটি ছিল প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সফলভাবে পাস হলো। তবে এই প্রচেষ্টা প্রতীকী হতে পারে, কারণ ট্রাম্পের এই বিলে ভেটো দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সিনেটে বলেছেন, এটি ছিল দশমবারের মতো সিনেট ট্রাম্পের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান ঠেকাতে যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সর্বোচ্চ বিভ্রান্তি, সর্বোচ্চ বিশৃঙ্খলা এবং আমেরিকান জনগণের জন্য সর্বোচ্চ খরচ নিয়ে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ইসরাইলের সাথে মিলে ইরানে হামলা শুরু করেন, যা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এটি ছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো সামরিক অভিযান। ২০২৫ সালের জুনে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধি কর্মসূচির সাথে সম্পর্কিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোমারু বিমান পাঠিয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেছেন, এই সর্বশেষ যুদ্ধ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে রোধ করতে প্রয়োজনীয় ছিল, যা ইরান দীর্ঘদিন অস্বীকার করে আসছে। তবে সমালোচকরা এই হামলাকে উস্কানিমূলক আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে আলোচনা চলছে, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইরান ১৭ জুনের একটি সমঝোতা চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করছে। তবে সেই চুক্তি টিকে থাকবে কিনা তা অস্পষ্ট। ইসরাইল, যুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যোগদানকারী, লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
কিছু রিপাবলিকান সেনেটর সতর্ক করেছেন যে এই যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব ট্রাম্পের সুইজারল্যান্ড আলোচনায় অবস্থান দুর্বল করবে। আইডাহোর জেমস রিশ বলেছেন, এটি পাস হলে ইরানিরা আলোচনা থেকে সরে যাবে।
তবে এই বিলের পাস দেখায় যে ট্রাম্পের সামরিক ব্যবহারের বিরুধে কংগ্রেসে একটি ক্রমবর্ধমান ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মার্কিন জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি জরিপ অনুসারে, মাত্র ২৪ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যে এই যুদ্ধ খরচের যোগ্য ছিল।
মার্কিন সংবিধানে কংগ্রেসকে যুদ্ধ ঘোষণার একক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিগত ৭৫ বছরে এই ক্ষমতার ভারসাম্য ক্ষয়ে গেছে, কারণ পরপর প্রেসিডেন্টরা বিদেশি সংঘাতে মার্কিন বাহিনী পাঠিয়েছেন।