বগুড়ায় তিন ইউনিয়নের নাম বদলে গণশুনানি, প্রস্তাবিত নতুন নামগুলো এখন
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় সম্প্রতি গঠিত তিনটি নতুন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের জন্য গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ পুরনো গ্রাম ও এলাকার নামে এই ইউনিয়নগুলোর নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। এর আগে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নামে ইউনিয়নের নাম রাখায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত মীরবাড়ি, দিগন্ত ও সীমান্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের জন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুই উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের মাঠে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় জনগণ তাদের প্রস্তাব ও মতামত লিখিত আকারে জমা দেন।
শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ী ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, মীরবাড়ী ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে বেতগাড়ী, রামকান্দি, আলিয়ারহাট, মালোগাড়ি, গোপীনাথপুর, হরিপুর কিংবা গোরনা রাখার প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুব হাসান চৌধুরী জানান, স্থানীয় জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণশুনানি হয়েছে এবং জগন্নাথপুর, অভিরামপুর, মানকৈয়র ও আমঝুপির নতুন নামের প্রস্তাব এসেছে। তিনি বলেন, আগামীকাল উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
মোকামতলা ইউনিয়নের দিগন্ত ইউনিয়ন নাম পরিবর্তন কমিটির আহ্বায়ক শিবগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণশুনানি হয়েছে এবং ভরিয়া ও পাকুড়তলা—এই দুটি নাম বেশি এসেছে। আগামী বৃহস্পতিবার রহবল এলাকায় আবার গণশুনানি হবে।
এই বিতর্কের উৎসমূলে রয়েছে গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসনের একটি প্রজ্ঞাপন। এতে মোকামতলা ও শিবগঞ্জ উপজেলার কিছু ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন করে ৪টি নতুন ইউনিয়ন তৈরি করা হয়। এসব ইউনিয়নের নামের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের এমপি মীর শাহে আলমের পরিবারের বংশ-পদবী 'মীর'-এর সঙ্গে মীরবাড়ী ইউনিয়ন এবং তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম মিলে গেলে বিতর্ক তৈরি হয়।
এই বিতর্ক সামলাতে গত ২০ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। একইদিনে বগুড়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানার সই করা একটি চিঠি শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করেন এবং গণশুনানির জন্য এলাকায় প্রচারণা চালানো হয়।