গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও ছোট পরিসরে উদযাপন
গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের চেষ্টা হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রস্তুত অবস্থায় থাকলেও কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি।
আজ মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গোপালগঞ্জে জনজীবন স্বাভাবিক ছিল যদিও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা ছিল। দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দীঘারকুল গ্রামে দলটির ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী মিছিল বের করে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন। এ ঘটনার ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। শহরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের উদ্বেগ দেখা যায়নি। কিছু এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সেনাবাহিনীকে টহল দিতে দেখা যায়নি। শহরের চৌরঙ্গী এলাকার রিকশাচালক নুর আলম জানান, অন্যদিনের তুলনায় আজ শহরে লোক কম। সকাল ১১টায় রিকশা নিয়ে বের হয়েছি, বিকেল ৫টা পর্যন্ত তেমন আয় হয়নি। চাঁদমারি এলাকার চা বিক্রেতা মনজ বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিন বেচাকেনা একরকম হয় না, আজও কম। দুপুরের পর অনেক রিকশাচালক বাড়ি চলে গেছে। এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলো ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী মিছিল করেছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়ের জানান, গোপালগঞ্জে যেন কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল রাত থেকে আজ পর্যন্ত পুলিশের নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জেলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্যও প্রস্তুত রয়েছে।