আদালতে জনতার রোষানলে শিশু ফাহিমার খুনি জাকিরের স্বীকোত্তি
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। এসময় জনতার রোষানলে সে গণপিটুনির শিকার হয়।
সিলেটের আদালতে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন স্বীকারোক্তি দেওয়ার সময় জনতার রোষানলে পড়েন। মঙ্গলবার তাকে চরম হেনস্তার পাশাপাশি গণপিটুনির শিকার হতে হয়। এর আগে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাকে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল।
ঘটনার মাত্র ১ মাস ৫ দিনের মাথায় গতকাল তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে মূল ঘাতক জাকির হোসেনকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে এবং তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
নিহত ফাহিমা আক্তার সিলেট সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে এবং প্রধান আসামি জাকির একই গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
আদালত সূত্র ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মে সকালে শিশু ফাহিমাকে দোকান থেকে সিগারেট এনে দেওয়ার বাহানায় নিজের ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় জাকির এবং একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে গলাটিপে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর লাশটি ঘরের ভেতর একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখার পর দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে ৮ মে গভীর রাতে বাড়ির পেছনের একটি ডোবার পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু লাশ ভেসে ওঠায় সেটি পাশের বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে ফেলে পালায় ঘাতকরা।
পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং ১১ মে রাতে মূল হত্যাকারী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করার পর তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক জাকিরের বাড়িতে দুই দফা ভাঙচুর চালায় এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে সিলেটজুড়ে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ইতোপূর্বে ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু বিচার ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছিলেন।