সব সংবাদ
অন্যান্য

কারি আবু রায়হানের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশ মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) রাতে ঢাকার পুরানা পল্টনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কারি আবু রায়হানের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানায় এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে। গত রোববার সকালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় এই হামলায় মাওলানা কারি আবু রায়হানের পা ভেঙে যায়।

বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান ও লালবাগ শাহী মসজিদের ইমাম মাওলানা কারি আবু রায়হানের ওপর সংঘটিত হামলার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংস্থাটির মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী। সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজত ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত রোববার (২১ জুন ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালিবাজাইল গ্রামে স্থানীয় জামায়াতের কর্মী মোশাররফ ধারালো শাবল দিয়ে হামলা চালিয়ে মাওলানা কারি আবু রায়হানের রানের হাড় ভেঙে দেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনাটি কোনো সাধারণ জমি বা সীমানাপ্রাচীর সংক্রান্ত বিরোধের ফল নয়; বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে কারি আবু রায়হানকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করে আসছিলেন এবং হামলার পরও প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এ সময় পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, হামলার পর স্থানীয় থানা প্রথমদিকে মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণে অনীহা দেখায়। হাসপাতালের চিকিৎসা প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও উপস্থাপন করার পরও দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তারা দাবি করেন। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে প্রশাসন সক্রিয় হয় এবং মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একজন প্রবীণ আলেমের ওপর এমন নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— মূল হামলাকারী মোশাররফ ও আলমসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তির দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালিবাজাইল গ্রামে অবস্থানরত কারি আবু রায়হানের পরিবার, বিশেষ করে তার ভাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং মামলা গ্রহণে প্রাথমিক অনীহার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা।