সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে: চিফ হুইপ
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির এক সংলাপে উঠে এসেছে, দেশে স্থাপিত ৬৯ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের প্রায় অর্ধেক এখন অকার্যকর। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) আয়োজিত এক সংলাপে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে স্থাপিত ৬৯ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ (৪৭ শতাংশ) অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত 'পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা' শীর্ষক এই সংলাপে এসব তথ্য উঠে আসে। সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে ইডকল বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাইকার অর্থায়নে প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোর লক্ষ্যে সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি শুরু করে, যা একসময় বিশ্বের বৃহত্তম অফগ্রিড সৌর কর্মসূচিতে পরিণত হয়। ২০১৩ সালে এক বছরে রেকর্ড ৮ লাখ ৫৩ হাজার সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিড দ্রুত সম্প্রসারণ শুরু হলে সোলারের প্রাসঙ্গিকতা কমে যায় এবং ২০১৮ সালে বার্ষিক নতুন সোলার স্থাপন ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমে মাত্র ৩ হাজার ৪৫৫টিতে নেমে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণের কারণে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং নষ্ট ব্যাটারি ও প্যানেল পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বিস্তার বাড়ছে। সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নেট-মিটারিংভিত্তিক ৪ হাজার ৫৫১টি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনা রয়েছে, যার মোট সক্ষমতা ২১৩ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। শুধু ২০২৫ সালেই ১ হাজার ৫৩১টি নতুন স্থাপনা যুক্ত হয়েছে। সংলাপে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, পাকিস্তানের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪১ শতাংশ আসে জীবাশ্য জ্বালানির বাইরে থেকে (২৫ শতাংশ জলবিদ্যুৎ, ৯ শতাংশ পারমাণবিক, ৭ শতাংশ নবায়নযোগ্য)। পাকিস্তান সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি এটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে চীনের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে সব সরকারি ভবনের ছাদ এবং শিল্পকারখানাগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেচ খরচ কমাতে সারা দেশের সেচপাম্প ও টিউবওয়েলগুলোকে ধাপে ধাপে সৌরশক্তিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইডকলের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ শাহরিয়ার জানান, আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমান সরকার বাতিল হওয়া ৩১টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করছে। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির ওপর শুল্ক প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা, আবাসিক গ্রাহকদের জন্য নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ ও ডিজিটাল করা, সৌর প্রকল্পে সহজ অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং পুরোনো সোলার হোম সিস্টেমগুলোকে হাইব্রিড বা গ্রিডসংযুক্ত ব্যবস্থায় রূপান্তরের দাবি জানান।