আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব, বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের নতুন উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত সামার দাভোস ২০২৬ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ। সম্মেলনে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীলতার প্রচারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোস ২০২৬ সম্মেলনে যোগ দিতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ। সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য হলো 'ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল'। এই আয়োজনে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সরকার 'বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত' এই বার্তা দিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থাশীল পরিবেশ তৈরি করছে।
এর আগে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার কীভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, সে নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী 'ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ' সেশনে বক্তব্য রাখেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ শিল্পের বিকাশে পাট শিল্প ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; এটি সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ। তিনি ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দেন।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের 'অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স'-এ অংশ নেবেন।