অর্থনীতিতে সুবাতাস
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি হওয়ায় জ্বালানি ও সারের দাম কমেছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
করোনা মহামারী বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছিল। সেই ধাক্কা সামলে নেয়ার আগেই ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়, যা এখন চার বছর পেরিয়ে পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। তবে আশার কথা, চলতি বছরের মধ্যেই এই যুদ্ধ শেষ হচ্ছে। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক মন্দা ও স্বৈরাচার হাসিনার বিরোধী আন্দোলনে দেশের অর্থনীতি টালমাটাল হয়। হাসিনার ভারতে পলায়নের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতিতে অর্থনীতি আরো বিপর্যস্ত হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে অর্থনীতিতে গতি ফেরার সম্ভাবনা জাগে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে। খাদ্য উৎপাদনের সারের দামও বাড়ে। তবে প্রায় চার মাস পরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে। জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলার থেকে ৭০-৮০ ডলারে নেমে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭৭ দশমিক ৭০ ডলার এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৭৩ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সারের দামও ৫০ শতাংশ কমেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফরে রয়েছেন। মালয়েশিয়ার শীর্ষ করপোরেট গ্রুপগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জ্বালানি ও সার আমদানির জন্য ৭১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও সারের দাম কমলে আমদানি ব্যয় ৩-৪ বিলিয়ন ডলার কমতে পারে। এতে রিজার্ভ সংরক্ষণ সহজ হবে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকবে। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় কমলে মূল্যস্ফীতির ওপর ১ থেকে দেড় শতাংশ পয়েন্ট ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ মনে করেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরবে এবং নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানি ও সারের দাম কমলে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক হতে পারব। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, জ্বালানি ও সারের দাম কমলে কৃষি উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।