প্রধানমন্ত্রী বললেন: জলবায়ু কার্যক্রম হলো বিনিয়োগ, ব্যয় নয়
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে জলবায়ু নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরে বলেছেন, জলবায়ু সহনশীলতা গড়তে প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি ও যৌথ অঙ্গীকার।
চীনের তালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ুর নেতৃত্ব’ শীর্ষক এই অধিবেশনে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়, বরং এটি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বিনিয়োগ।
তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের ওপর জোর দেন। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবে রূপায়িত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য ও চাহিদা-সাপেক্ষ করতে হবে, যাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ে। এই লক্ষ্যে সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএএফ) কার্যকরী করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিষয়।
এই অধিবেশনে ৯০টির বেশি দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেন।
বাংলাদেশ সরকারের জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলায় কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও কৃষিকে সহায়তা করতে প্রধান নদীর উপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একটি ব্যাপক মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজকেও আধুনিক করা হচ্ছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বনাঞ্চল সম্প্রসারণে সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে। গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ চালু করা হচ্ছে।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০% বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।