সিটি ব্যাংক-মিল্ক ভিটা-অ্যাগ্রোশিফটের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি: দুগ্ধ খামারিদের জন্য ডিজিটাল অর্থায়ন সুবিধা
সিটি ব্যাংক, মিল্ক ভিটা ও অ্যাগ্রোশিফট একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের ৩ লক্ষাধিক দুগ্ধ খামারিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিটি ব্যাংক দুগ্ধ খামার খাতে ৪১৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
সিটি ব্যাংক পিএলসি, মিল্ক ভিটা এবং অ্যাগ্রোশিফট সম্প্রতি একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (গড়ট) স্বাক্ষর করেছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এবং মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল-এর উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় অ্যাগ্রোশিফটের সিইও কাজী বুলান্দ মুসাব্বিরসহ তিন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের সীমিত প্রবেশাধিকার সমস্যা সমাধান করা। দেশে প্রায় ১২ লাখ দুগ্ধ খামার রয়েছে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯৪ লাখ মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উপখাত জাতীয় জিডিপির প্রায় ২.৭৩ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপির ১৭.১৫ শতাংশ অবদান রাখে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টন দুধ উৎপাদিত হয়েছে, যা এশিয়ায় পঞ্চম এবং বিশ্বে উনবিংশ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৯ সাল পর্যন্ত দেশের দুগ্ধবাজারে বার্ষিক গড়ে ৯ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং বাজারের আকার দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.০৩ লক্ষ কোটি টাকা। তবে মোট উৎপাদিত দুধের মাত্র ৯ শতাংশ বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার আওতায় আসে।
এই উদ্যোগের আওতায় মিল্ক ভিটার ৩,৩০০-এর বেশি প্রাথমিক সমবায় সমিতি, ৬১টি চিলিং সেন্টার এবং ৫৭টি জেলায় কার্যরত ৩ লক্ষাধিক দুগ্ধ খামারির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হবে। অ্যাগ্রোশিফট প্রযুক্তি ও ইকোসিস্টেম সহযোগী হিসেবে কাজ করবে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে খামারি শনাক্তকরণ, ডিজিটাল অনবোর্ডিং, ই-কেওয়াইসি, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ঋণের ব্যবহার ট্র্যাকিংয়ে সহায়তা করবে।
এই ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে সিটি ব্যাংক দুগ্ধ ও গবাদিপশু খামারিদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকটি মোট ১,১০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের মধ্যে প্রায় ৪১৩ কোটি টাকা দুগ্ধ খামার খাতে বিতরণ করেছে।
ভবিষ্যতে মিল্ক ভিটার সমবায় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১ লক্ষাধিক খামারিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা, দেশের ৬৪টি জেলায় সম্প্রসারণযোগ্য একটি দুগ্ধ অর্থায়ন মডেল প্রতিষ্ঠা করা এবং ৩ লক্ষাধিক খামারির জন্য একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।