যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রথম দিন: কোথায় একমত, কোথায় মতভেদ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে প্রথম দিনের আলোচনা শেষে উভয় পক্ষে অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। তবে জম্মুর তহবিল ও পারমাণবিক পরিদর্শন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতারা প্রথম দিনের আলোচনায় অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেছেন, এ পর্যন্ত যে চুক্তি হয়েছে তা উভয় পক্ষের জন্য উপকারী। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মতভেদ রয়েছে।
শান্তি চুক্তির প্রথম দিনের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য অবলম্বন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি তার দায়িত্ব পালন না করে তাহলে তিনি "যা করণীয় তা" করবেন।
গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে একটি স্মারক চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরের পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়।
উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি "যোগাযোগ রেখা" স্থাপন করেছে যাতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে ঘটনা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আক্রমণ শুরুর পর ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তেলের দাম বেড়ে যায়।
মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান সোমবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধান আলোচকরা নিয়মিতভাবে উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে রিপোর্ট করবেন এবং পারমাণবিক, নিষেধাজ্ঞা এবং পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপের নেতৃত্ব দেবেন।
তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ছাড়াও দুই পক্ষ কী কী নিয়ে একমত হয়েছে তা নিয়ে তাদের মতভেদ রয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ১২০ কোটি ডলারের স্থবির ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে রাজি হয়েছে, কিন্তু ওয়াশিংটন এটি নিশ্চিত করেনি। আর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে রাজি হয়েছে, কিন্তু ইরান এটি অস্বীকার করেছে।
শান্তি চুক্তির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও আলোচনা বাকি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের ভাগ্য এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিস্তারিত।